পদ হারাতে পারেন বিএনপির এমপি-মন্ত্রীরা, আলোচনায় যেসব নাম
দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও ক্ষমতার পালাবদলের পর সরকার ও বিএনপির সম্পর্ক এখন অনেকটাই সমান্তরাল অবস্থানে পৌঁছেছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ একই সঙ্গে দলীয় রাজনীতিতেও প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন। এতে প্রশাসনিক দায়িত্ব ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের মধ্যে ভারসাম্যহীনতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে দলটির নীতিনির্ধারক মহল।
এমন বাস্তবতায় কেন্দ্রীয় পদ ছাড়া জেলা, মহানগর ও থানা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদ থেকে মন্ত্রী ও এমপিদের সরিয়ে দেওয়ার চিন্তা করছে বিএনপি। দলীয় সূত্র বলছে, নতুন নেতৃত্ব তৈরির সুযোগ সৃষ্টি এবং সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও গতিশীল করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সরকারের দায়িত্বে থাকা অনেক মন্ত্রী-এমপিকে দলীয় পদ ছাড়তে হতে পারে। একইসঙ্গে বিএনপিতে দীর্ঘদিন আলোচিত ‘এক নেতার এক পদ’ নীতিও কার্যকর হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে ধানমন্ডি-৩২ নম্বরের একটি বাড়ির নির্দিষ্ট গণ্ডি থেকে বের করে রাজনীতিকে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে গিয়েছিলেন। যারা মন্ত্রী-এমপি থাকবেন, তারা দলীয় কোনো পদে থাকবেন না জিয়াউর রহমানের এ মডেল অনুসরণ করে ‘এক নেতা এক পদ’ নীতি চালু করেছিল বিএনপি। ২০১৬ সালে দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে এ বিষয়ে গঠনতন্ত্রে যুক্ত করা হয়েছে।
জানা গেছে, ঢাকা মহাগর বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল—এ তিন সংগঠনের অন্তত ছয়জন নেতা এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন। এদের মধ্যে দুজন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এরা হলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা-১৮ আসনে উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, ফেনী-১ আসনে দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, ভোলা-৪ আসনে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নরুল ইসলাম নয়ন, গোপালগঞ্জ-৩ আসনে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী এবং বরিশাল-৪ আসনে সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান। এদের সরিয়ে দিয়ে এ তিন ইউনিটের নতুন কমিটি গঠনের কাজ চলমান।

Comments
Post a Comment