অবশেষে সংসদে ২৬৫ সদস্যের ভোট পেয়ে নতুন রা/ষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন বিস্তারিত কমেন্টে
প্রথমবারের মতো পঞ্চাশ সদস্যের মন্ত্রিসভা নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারে আসতে পারে বড় পরিবর্তন। আলোচনা চলছে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানো ও দফতর পুনর্বিন্যাস নিয়েও। এর আগে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ৪৬ সদস্যের মন্ত্রিসভা করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। পরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬০ জনে। তারেক রহমানের সংখ্যাও ধীরে ধীরে বাড়বে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, এটা কোনো বিচিত্র ব্যাপার না, খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। মানে সংসদীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু তার মানে এই না যে, এটা হবেই বা এখন হবে কিংবা তখন হবে। এগুলো নিয়ে কথা বলার ক্ষমতা একমাত্র বোধয় প্রধানমন্ত্রীর আছে। তিনি যখন উপযুক্ত বিবেচনা করবেন, তখন কাউকে দায়িত্ব দিতে পারেন বা কারও থেকে দায়িত্ব নিয়ে নিতে পারেন।
বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাশেদুজ্জামান মিল্লাত বললেন, কী হবে, তা আমরা জানি না। ফেসবুকে দেখা যাচ্ছে, অনেকে মন্ত্রী হবেন, রদবদল হবে।
মন্ত্রিসভায় এখন ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। একাধিক মন্ত্রণালয় সামলাচ্ছে ৮ মন্ত্রী ও ৩ প্রতিমন্ত্রী। তাদের ওপর কাজের চাপ কমানো ও সরকারের কাজে গতিশীলতা আনতে তিন থেকে পাঁচজন নতুন মুখ বিবেচনা করা হচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদে কারা যুক্ত হতে পারেন, সেই আলোচনায় আছেন সংসদ সদস্য আবদুল মঈন খান, বরকত উল্লাহ বুলু, জয়নুল আবদিন ফারুক, এরশাদ উল্লাহ, বি এম মোশাররফ হোসেন, সংরক্ষিত আসনের সেলিমা রহমান এবং টেকনোক্রেট কোটায় মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও মাহিদুর রহমান।
নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরাও এরই মধ্যে শপথ নিয়েছেন। বিএনপি সরকারের যাত্রা শুরু করার পর এই সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি কে হবেন বা কবে হবেন তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের আমলেই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন মো: সাহাবুদ্দিন। গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি ওঠে ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে। তবে তার কাছেই নতুন নির্বাচিত সরকার শপথ গ্রহণ করেছেন।
আজকের আলোচিত সংবাদ
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন দায়িত্ব আসেন। তার মেয়াদ রয়েছে ২০২৮ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত। ফলে ওই পদে থাকা অবস্থায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার আইনগত সুযোগ নেই।
যে কারণে তিনি যদি পদত্যাগ না করেন কিংবা অভিশংসন না করা পর্যন্ত নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে কেউ শপথ নিতে পারবেন না বলে জানাচ্ছেন সংবিধান বিশ্লেষকরা।
আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল বলেন, এ নিয়ে সংবিধানেই বলা আছে যে রাষ্ট্রপতির পদ কিভাবে শূন্য হবে। পদ শূন্য হওয়ার পরই এই নিয়ে কার্যক্রম শুরু করবে নতুন সংসদ।
বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা খুবই সীমিত। যে কারণে রাষ্ট্র ব্যবস্থা সংস্কারের জুলাই সনদে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে বেশ কিছু প্রস্তাবনাও আনা হয়েছে। সেসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বেশ কিছুটা বাড়বে।
তিন কারণে শূন্য হয় রাষ্ট্রপতি পদ
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতি। সংবিধান অনুযায়ী, একজন রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। সর্বোচ্চ দু’বার দায়িত্ব পালন করতে পারেন তিনি।
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ২০২৩ সালের এপ্রিলে দায়িত্ব নেয়া মো: সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।
২০২৪ এ গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের শপথও যেমন পড়িয়েছেন মো: সাহাবুদ্দিন, তেমনি তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের শপথ পাঠ করিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ সৌদি আরবে ঈদের তারিখ প্রকাশ
যদিও ২০২৪ সালের অক্টোবরে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে জোরাল আন্দোলন করেছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে অপসারণ কিংবা তার পদত্যাগের ঘটনা ঘটেনি।
তবে গত ডিসেম্বর মাসে বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তিনি সরে যেতে চান। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তিনি ‘অপমাণিত বোধ’ করছেন।
সেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি সরে যেতে চাই, আমি সরে যেতে আগ্রহী। নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাওয়া উচিত। সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতির পদে থাকায় আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।’
বিশ্লেষকদের অনেকে ধারণা করছেন, মো: সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ নেয়া বিএনপি সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তন আসবে। নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন তা নিয়ে নানা আলোচনাও চলছে।
গতকাল মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেছেন। এরপরই নতুন সংসদে নতুন স্পিকার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতি যদি পদত্যাগপত্র জমা দেন তাহলে অভিশংসনের প্রয়োজন হবে না। রাষ্ট্রপতি আগেই সরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করায় এক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হবে না বলেই বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।
নতুন সরকার ও সংসদ সদস্যরা দায়িত্ব নেয়ার পর রাষ্ট্রপতির পরিবর্তনের প্রশ্নটি সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
Comments
Post a Comment